bdnewss24 desk : সরকার পতনে বিএনপির আন্দোলনের হুমকির পরও তা চাঙা করতে না পারায় একটি পক্ষ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রাজধানী ঢাকাকে অস্থির করে তুলতে চাইছে। এমনই মত দেশের গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর ঢাকার রাজাবাজার এলাকায় বাসায় ঢুকে জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকান্ড ও মগবাজারে গুলি করে একই পরিবারের ৩ সদস্যকে খুন করা হয়। যদিও মগবাজারের ৩ খুনের ঘটনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থাকার বিষয়টি সম্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু ঘটনা ২টি ভালো করে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুটি ঘটনাই ঘটেছে সন্ধ্যার পরপর।
পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তাঁদের চোখের সামনে মর্মান্তিক নৃশংস এ হত্যাকা-গুলো ঘটিয়ে নিরাপদে চলে গেছে হত্যাকারীরা। এ দুটি ঘটনার পর সংসদের বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
যদিও সরকারপক্ষ থেকে দুটি ঘটনা ঘটার পরপরই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসামিদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চৌকস কর্মকতারা। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যেখানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা থাকে সেখানে যদি প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা দেশের সূর্য্য সন্তানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে তুচ্ছ ঘটনায় তাঁদের বাসায় গিয়ে হত্যা করে তখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার জন্য কি করতে পারে? প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক। কারণ নিজ বদ্ধ ঘরেও যখন গলা কেটে কিংবা গুলি করে হত্যা করা হয় তাও পরিবারের সদস্যদের সামনে তখন তাঁদের কিছুই করার থাকে না।
এ ঘটনাকে যদিও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবুও স্বত্ত্বি পাচ্ছে না মানুষ। তাই দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে একটি সূত্র ভোরের পাতার এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে, ‘সরকারবিরোধী কোনো গ্রুপ গুপ্ত হত্যায় জড়িত আছে কি-না তা ভালো করেই তদন্ত ও যাচাইবাছাই করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সেইসঙ্গে জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক মাওলানা ফারুকীকে হত্যার সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের জড়িত বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ যদিও এখন পর্যন্ত মাওলানা ফারুকীকে হত্যার দায় স্বীকার করেনি কোনো গ্রুপ। তাই বিষয়টি জটিল হলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব সোর্স ব্যবহার করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাওলানা ফারুকীর খুনিদের গ্রেফতার করতে কয়েকটি বিশেষ টিম রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সর্বত্র অভিযান চলাচ্ছে অত্যন্ত গোপনে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ফারুকী হত্যার মোটিভ বের করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মাওলানা ফারুকী হত্যাকারীদের ধরতে ঝটিকা অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সরকারের একটি অংশ মনে করছে, আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য যে আন্দোলন করার দরকার ছিল তাও পারছে না বিএনপি নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে। এ কারণে তাদের হাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন করে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কোনো ইস্যু নেই। তাই সরকারকে চাপে ফেলতে একটি গ্রুপ ফারুকী হত্যাকান্ডের পাশাপাশি ঢাকাকে অশান্ত করে তুলছে। কারণ বার বার সরকার পতনের ডাক দিয়েও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাজপথে দেখা না যাওয়ায় জমে উঠেনি বিএনপির আন্দোলন। তাই ক্রমেই তাদের সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক আর হতাশা বিরাজ করছে। তবে ফারুকী হত্যাকান্ডের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারকে দায়ী করে বক্তব্য দিলেও সরকার তা অস্বীকার করছে।
এ বিষয়ে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া না জেনে না শুনে কি করে বুঝলেন ফারুকী হত্যাকা- সরকার করেছে।’ তিনি খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাওলানা ফারুকী হত্যাকা-ের ঘটনায় সরকার বিব্রত। আর তাই যে কোনো মূল্যে হত্যাকারীদের ধরতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি ছাড়া করার পরও ঢাকাকে উত্তপ্ত করতে পারেনি বিএনপি। কিন্তু হঠাৎ করে কে বা কারা ফারুকীর মতো ইসলামী চিন্তাবিদকে হত্যা করে সরকারকে বেকাদায় ফেলতে নীল নকশা আকছে, তাদের ব্যপারেও নজরদারি করছে সরকার। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে বলেও পুলিশ হেডকোয়াটার্স সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ঢাকার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপশি সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ৪ খুনের ঘটনা ভালো লক্ষণ নয়।’ তিনি সরকারকে আরও সজাগ থাকতে পরামর্শ দেন।

No comments:
Post a Comment