Wednesday, September 3, 2014

আর্জেন্টিনার ৪ গোলে বিশ্বকাপ হারের ‘প্রতিশোধ’ !


 
বিশ্বকাপ ফাইনাল আর আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের মধ্যে কোনো তুলনা টানা চলে না। কিন্তু তারপরেও ডুসেলডর্ফে বারবার ফিরে আসছে মারাকানা। কারণ, বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক ৫২ দিন পর ফের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও জার্মানি।
যেন ফুটবল মহাযজ্ঞের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের পুনঃমঞ্চায়ন! এবার অবশ্য দাবার ছকে দানের পাশা বদলে গেছে। এবার ফাইনাল হারের কঠিন প্রতিশোধ নিতে সক্ষম আর্জেন্টিনা। তাই বুধবার স্বাগতিক জার্মানিকে ৪-২ গোলের বড় হারের লজ্জা দিয়েছে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া-সার্জিও আগুয়েরোরা।
অথচ ফুটবল তীর্থে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্বর্গের শেষ ধাপে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত দেবালয়-দর্শনের অনাবিল সুখ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কারণ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা থেকে যে শ্বাষ দূরত্বে পৌঁছেও তা আর হাতে ওঠানো হয়নি ফুটবল যুবরাজের। দূর থেকেই দেখতে হয়েছে।

সেবার মারাকানার মহারণে নিজেদের প্রাপ্য সম্মানটুকু বগলদাবা করে জার্মানি। লাতিন আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিংশতম ফুটবলযজ্ঞে ইউরোপের দেশটির হাতে ওঠে চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি। সেটা যেন ভালো লাগেনি ফুটবল দেবতার। তাই এবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে প্রতিশোধের একটা মঞ্চ উপহার দেন তিনি। তাতে পুরো ষোলোআনাই যেন সফল টাটা মার্টিনোর শিষ্যরা।

আলেসান্দ্রো সাবেলার কাছ থেকে আলবেসেলেস্তিদের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মিশনেই দেশবাসীকে দারুণ এক জয় উপহার দিলেন বার্সেলোনার সাবেক এই কোচ। সেটা বিশ্বকাপ ফাইনালের হারের জ্বালা জুড়িয়ে, একেবারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে। অথচ ইনজুরির কারণে এদিন খেলতেই পারেননি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি। উপস্থিত ছিলেন না এজকুয়েল লাভেজ্জিও।

এই অবস্থায় মিডফিল্ড ত্রয়ী অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, এরিক লামেলা ও হাভিয়ের মাসচেরানোকে দিয়ে আক্রমণ ভাগ সাজান মার্টিনো। তাতেই চূর্ণ জার্মান দর্প। কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনার রক্ষণে বারবার হামলে পড়লেও ফিনিশিং টাসে খুব বেশি বিচক্ষণতা দেখাতে পারেনি মারিও গোমেজ ও মার্কো রেউসরা। তাই বল পজেশনে আধিপত্য থাকলেও প্রথমে গোল হজম করতে হয় জোয়াকিম লো’র শিষ্যদেরই।

খেলার ২০ মিনিটে আসে সেই মূহুর্তটি। যখন পাবলো জাবালেতার নিকট থেকে বল পেয়ে আলতো ছোঁয়ায় সার্জিও আগুয়েরোকে বল পাঠান ম্যানইউয়ের রেকর্ড সাইনিং ডি মারিয়া। সেই বলটিতে আলতো লব করে ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে ফাঁকি দেন ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড। লিড পায় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগে খেলার ৪০ মিনিটে এরিক লামেলার ঝলক। এবারে গোলের কাঠিটা নাড়েন ডি মারিয়া’ই। অর্থাৎ, তার পাসেই স্কোরলাইন ২-০ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ফিরেও অব্যাহত থাকা আর্জেন্টিনার গোল ঝলোচ্ছ্বাস। খেলার ৪৭ মিনিটে ম্যাচের তৃতীয় অ্যাসিস্টটিও করেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। যা থেকে চমৎকার এক হেডারে আলবেসেলেস্তিদের তৃতীয়বার এগিয়ে নেন ফেদরিকো ফার্নান্দেজ। এরপর আর পেছনের কারিগর থাকেননি ডি মারিয়া। বিরতির পাঁচ মিনিট বাদে জার্মানির জালে চতুর্থ গোলটি জড়িয়ে দেন ৮৮ মিলিয়ন দামের এই ফুটবলার।

তবে চার গোলের লিড পাওয়ার পর যেন এক প্রকার আলস্য পেয়ে বসে আর্জেন্টিনাকে। তাই কিছুটা আলগা হয়ে পড়ে লাতিন আমেরিকার দেশটির রক্ষণ। এই সুযোগটি নেন জার্মানি দলের চেলসি উইঙ্গার আন্দ্রে শুরলে। খেলার ৫২ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় দারুণ এক গোল করেন ব্লুজ ফুটবলার। এরপর শেষ বাঁশি বাজার ১২ মিনিট আগে মারিও গোটশে হারের ব্যবধানটা আরো কমান। জার্মানদের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন বায়ার্ন মিউনিখ ফুটবলার।
Unknown
Unknown

This is a short biography of the post author. Maecenas nec odio et ante tincidunt tempus donec vitae sapien ut libero venenatis faucibus nullam quis ante maecenas nec odio et ante tincidunt tempus donec.

No comments:

Post a Comment